WB Govt Employees 7th Pay Commission Salary Increase News
বর্তমানে কেন্দ্র সরকারি কর্মীরা সপ্তম বেতন কমিশনের (7th Pay Commission) অধীনে চলতি সপ্তাহে ৩ শতাংশ ডিএ ঘোষণার পর মোট ৫৮ শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন। যেখানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীরা ষষ্ঠ বেতন কমিশনের (6th Pay Commission) অধীনে মাত্র ১৮ শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন। যার ফলে, কেন্দ্র এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের DA এর ফারাক হয়ে দাড়াচ্ছে ৪০ শতাংশ! এই বিপুল পার্থক্য না মিটলে রাজ্যে নতুন বেতন কমিশন চালু করা সম্ভব নয়। যার ফলে আদৌ ৭ম পে কমিশন কবে বসবে, বা বসলেও কবে নতুন হারে বেতন পাবেন, কোনও নিশ্চয়তা নেই।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal) বকেয়া ডিএ দেওয়া নিয়ে কি ভাবছে, এই নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee) কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি আদালতের বিচারাধীন বিষয় বলে মন্তব্য করেন নি। অর্থাৎ এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার যে রাজ্য সরকারের মাঝে মাঝে ২-১% ডিএ দেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও মামলা চলার কারণে, ওই মামলার অজুহাত দেখিয়ে যা ও ডিএ দিতো সেটাও আরও কমিয়ে দিয়েছে, এমন টাই মনে করছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশ।
রাজ্যের আইনি পদক্ষেপ
আদালতের প্রক্রিয়া বলে যখন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী বকেয়া ডিএ নিয়ে মন্তব্য করছেন না, তখন রাজ্য সরকারের আইনজীবী সুপ্রিমকোর্টে জানাচ্ছে, রাজ্য সরকারি কর্মীরা কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পাওয়ার দাবি করছেন, খোদ বিজেপি রাজ্যের সরকারি কর্মীরাই কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পায় না। এমন ১২টি রাজ্যের নথি জমা দেন রাজ্য পক্ষের আইনজীবী কপিল সিব্বল। এছাড়া তিনি আদালতে জানান, রাজ্য সরকারি কর্মীদের কেন্দ্রীয় হারে ডিএ প্রদান করতে হবে, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনও নথিতে এমনটা লেখা নেই। আর রাজ্য সরকার তার কর্মীদের নিজের ইচ্ছেমতো বেতন দেবার সাংবিধানিক অধিকার রাখে। তাই রাজ্য কখন ডিএ দেবে সেটা রাজ্যের ব্যপার।
তবে রাজ্য সরকার কর্মীদের প্রতি সংবেদনশীল, কিন্তু আর্থিক অবস্থার কারণে যতটুকু সম্ভব, ততটুকুই ডিএ প্রদান করা হচ্ছে। সুতরাং একদিকে আর্থিক অবস্থার কারণ দেখিয়ে ডিএ দিচ্ছেনা রাজ্য সরকার, একথা আদালতে জানাচ্ছে, আইনি ভারসাম্য রক্ষা করতে। অন্যদিকে আইনি প্রক্রিয়া বা আদালতের বিষয় বলে ডিএ ও পে কমিশন পেতে আরও দেরি করছে বলে কর্মীদের অভিযোগ। সুতরাং কর্মীদের একাংশের আশংকা, রাজ্য সরকার যতটুকুই বা দিতো (DA Salary increase), এই মামলা করার জন্য, তাও দেওয়া বন্ধ করেছে।
সরকারি কর্মীদের প্রতিক্রিয়া
রাজ্য সরকার (Government of West Bengal) কেন্দ্রীয় AICPI হারে ডিএ দেওয়া নিয়ে ১২টি রাজ্যের তথ্য দিলেও সরকারি কর্মীদের দাবি, ওই ১২টি রাজ্যের ৮টি রাজ্যই AICPI হারে ডিএ দেয়। এবার কার কথা ঠিক, সেটা সময় বলবে। তবে, একদিকে রাজ্য সরকার, অর্থদপ্তর ও রাজ্যের আইনজীবীরা একজোটে কাজ করছেন। অন্যদিকে রাজ্য সরকারি কর্মীদের এই একই মামলা নিয়ে ৫টি সংগঠন ৫ ভাবে মামলা লড়ছে। একেক দলের প্রতিক্রিয়া বা আইনি কৌশল একেক রকম। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের বিপক্ষে লড়া এক সময়কার এই মামলার অন্যতম আইনজীবী এখন রাজ্য সরকারেরই বার কাউন্সিলের পদে রয়েছেন। সব মিলিয়ে এই ডিএ মামলা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত খোদ রাজ্য সরকারি কর্মীরাই। যার ফলে স্বভাবতই রাজ্য সরকার বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।
লাখ কথার এক কথা
২০১৬ সাল থেকে চলা এই মামলার রায় কি হবে, তা নিয়ে প্রতিক্ষায় রয়েছেন লাখ লাখ সরকারি কর্মী। আশাকরা যায় পুজোর ছুটির পরই রায় বেরোবে। এই রায়ে কর্মীদের জয় হবে বলে মনে করছেন কর্মীরাই। অন্যদিকে এই মামলায় জয় পেলেও রাজ্য সরকার ফের সময় চাইতে পারে। তবে প্রতিবছর পুজোর আগে যে একেক বার করে ডিএ ঘোষণা হতো, সেটি এই মামলার কারনেই নাকি সরকার দিচ্ছে না, মনে করছেন কর্মীদের একাংশই। এই প্রতিবেদনের অনেক কথা বা যুক্তি হয়তো উভয় পক্ষেরই গাত্রদাহের কারণ হতে পারে। তবে সময় ও পরিস্থিতি এক সময় কে সঠিক আর কে ভুল, সেটা নিজেই প্রকাশ করবে।
উপসংহার
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীরা তাদের শেষ বক্তব্য লিখিত আকারে প্রকাশ করলেই বকেয়া ডিএ মামলার রায় ঘোষণা হবে। এক দিকে ডিএ মামলা, অন্যদিকে পে কমিশনের (7th Pay Commission) সময় চলে যায়। কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) ঘোষণা করেছে। সেখানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ৫ম বেতন কমিশনের বকেয়া নিয়েই পড়ে আছে। তাই এই মামলা যত দ্রুত শেষ হয়, ততই নতুন পে কমিশনের (Pay Commission Salary increase) জন্য মঙ্গল। নইলে, ‘যা গেছে তা গেছে’ এই কথা না আবার শুনতে হয়!
0 Comments