নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: বৃষ্টি ও নদীর জল ঢুকে কোচবিহারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোট ৯৬০ হেক্টর কৃষি জমি। জেলায় ওই সমস্ত জমিতে মূলত ধান রোপণ করা হয়েছিল। কোথাও দুই-তিন দিন জল দাঁড়িয়ে থাকায় ধানের ক্ষতি হয়েছে। কোনও জায়গায় আবার জমিতে কাদা ও পলি জমে ক্ষতি হয়েছে। জমি প্লাবিত হওয়ার পর থেকেই কৃষিদপ্তর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপ করতে মাঠে নেমেছিল। কয়েকদিন সমীক্ষার পর ক্ষতির পরিমাণ জানা গিয়েছে।
জেলার
১২টি ব্লকের মধ্যে ন’টি ব্লকে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা।
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে ছ’হাজার কৃষক। এই বিপুল পরিমাণ ক্ষতির মুখে
পড়েও কৃষকরা যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন তারজন্য বাংলার শস্য বিমা যোজনা
রয়েছে। সেই প্রকল্পেরও কাজ জেলায় চলছে। প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার কৃষক এর
আওয়ায় ইতিমধ্যেই চলে এসেছেন। এর মধ্যেই এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে যাওয়ায়
এবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ক্যাম্প করে বাংলার শস্য বিমা যোজনার আওতায় নিয়ে
আসা হচ্ছে এলাকার কৃষকদের।
শুধু কৃষি ক্ষেত্রেই নয়, জেলার নদীগুলিতে
জলস্ফীতি ঘটয়ায় মোট ২৫টি জায়গায় নদী ভাঙন ও বাঁধ মেরামতের জন্য ১৭টি কাজ
করবে সেচদপ্তর। তার তালিকাও প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে।
জেলা কৃষি আধিকারিক
অসিতবরণ মণ্ডল বলেন, ন’টি ব্লকে ৯৬০ হেক্টর চাষের জমি ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির
পরিমাণ ১০ কোটি টাকা। এটাই চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসেব। সারা জেলাতেই বাংলার
শস্য বিমা যোজনার কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ক্যাম্প করা হচ্ছে। এরপর
গ্রাউন্ড ট্রুথিং, স্যাটেলাইট ম্যাপিং ইত্যাদির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ক্ষতির
পরিমাপ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
পাহাড়ে ব্যাপক বৃষ্টি, সেই সঙ্গে
কোচবিহারে কয়েক ঘণ্টায় প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার নদীগুলি বেশকিছু
এলাকা প্লাবিত করেছিল। নদী সংলগ্ন চাষের জমিতে জল ঢুকে যাওয়াতে জমিতে থাকা
ধানের চারা ক্ষতির মুখে পড়ে। ফলে অনেক জায়গাতেই কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে।
বিঘার পর বিঘা জমিতে জল দাঁড়িয়ে যাওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। সেই ক্ষতিরই
পরিমাপ করতে নেমেছিল কৃষিদপ্তর। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বাংলার শস্য বিমা
যোজনার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের টাকা পেলে কিছুটা হলেও সুরাহা হবে তাঁদের।
0 Comments