এসআইআরকে অস্ত্র করে বিজেপির ধর্মের রাজনীতি নিয়ে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বহরমপুর স্টেডিয়ামের জনসভা থেকে তিনি বলেন, ‘ওরা নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে। ডিটেনশন ক্যাম্পের ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু আপনারা আশ্বস্ত থাকুন, কারও নাম বাদ যাবে না। আর কাউকে যদি বাংলাদেশ পাঠিয়েও দেওয়া হয়, আমি ফিরিয়ে আনব।’ করতালিতে ফেটে পড়ে গোটা সভাস্থল। তারই মাঝে মুখ্যমন্ত্রীর নজর পড়ে এসআইআরে মৃত সাত পরিবারের সদস্যদের দিকে। তাঁদের মঞ্চে ডেকে নেন। এরপরই কড়া ভাষায় বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যাঁরা এসআইআর আবহে মারা গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে তো অর্ধেকের বেশি হিন্দু। যে গাছের ডালে বসে আছেন, সেই ডাল কাটবেন না!’
এদিন
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মোটু ভাই বলে কটাক্ষ করে মমতা। বলেন, ‘ওরা
পরিকল্পনা করেই নির্বাচনের আগে এই সময়টা বেছে নিয়েছে। যদি এসআইআর না করতে
দিতাম, তাহলে ভোট না করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করত। অমিত শাহ, ওই মোটু
ভাইয়ের চালাকি এটা!’
এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কেন বিজেপি-শাসিত
রাজ্যে এসআইআর নয়? যেসব সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় নেই, সেখানেই
কেন ভোটের আগে এসআইআর হবে? অসম, ত্রিপুরায় বাংলাদেশের সীমান্ত নেই? সেখানে
কেন এসআইআর হবে না? বিজেপি ক্ষমতায় আছে বলে? আরে রোহিঙ্গা তো ওখানেই বেশি।
রোহিঙ্গা আমরা কীভাবে এখানে নিয়ে আসব? মিজোরাম-মণিপুর দিয়ে ঢুকবে? বর্ডারে
বিএসএফ, আইটিবিপি, এসএসবি এরা সব তো কেন্দ্রের।’
তিনি যে জনসাধারণের
পাহারাদার, আরও একবার বুঝিয়ে দেন মমতা। বলেন, ‘আমার গলা কেটে দিলেও বাংলায়
ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না। যতক্ষণ না আপনাদের সকলের নাম উঠছে, ততক্ষণ
আমি নিজের নাম তুলব না। বিজেপি কান খুলে শুনে নাও, বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প
করতে দেব না। ক্ষমতা নেই তোমাদের।’ এদিন ওয়াকফ ইশ্যুতেও নবাবি মুলুকে
দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রত্যয়ের সঙ্গে জানান, নিশ্চিন্তে থাকুন। কারও
সম্পত্তি কেউ দখল করবে না। কেউ কেউ উল্টোপাল্টা কথা রটিয়ে সংখ্যালঘুদের
বিভ্রান্ত করছে।
এসআইআর আবহে অসুস্থদেরও সাহায্য করা হবে বলে ঘোষণা করেন
রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। বলেন, ‘এসআইআর আবহে যে ৪০ জন মারা গিয়েছেন,
তাঁদের দু’লক্ষ টাকা করে দেবে রাজ্য। যাঁরা হাসপাতালে আছেন, তাঁদেরও
সাহায্য করা হবে।’

0 Comments