সময় যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজ্যে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা। নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজ্যে ৭ কোটি ৫৭ লক্ষ ৪৬ হাজার ৮৯৫টি অর্থাৎ ৯৮.৮৪ শতাংশ ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজড হয়েছে। তার মধ্যে ম্যাপিং সম্ভবই হয়নি ৫৩ লক্ষ ভোটারের। এই তালিকায় কারা আছেন? মৃত, স্থানান্তরিত ও অনুপস্থিত ভোটাররা। অর্থাৎ, খসড়া ভোটার তালিকা থেকে এই ৫৩ লক্ষ নাম বাদ পড়তে চলেছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে
গ্রামাঞ্চলের থেকে শহরাঞ্চলে মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারের সংখ্যা বেশি।
কমিশন সূত্রে এমন খবরই মিলেছে। জানা গিয়েছে, কলকাতা, আসানসোল-দুর্গাপুর,
দমদম, বিধাননগর, চন্দননগর, কল্যাণী, শিলিগুড়ির মতো বড় শহরগুলিতে মৃতের
সংখ্যা বেশি। শুধুমাত্র উত্তর কলকাতাতেই এ পর্যন্ত ১ লক্ষ ১ হাজার ৪৫৭
হাজার মৃত ভোটারের হদিশ মিলেছে। পিছিয়ে নেই দক্ষিণ কলকাতাও। এখানে মৃত
ভোটারের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৯৪৯। এছাড়াও দমদম, বিধাননগর ও শিলিগুড়ির মতো
শহরে গড়ে মৃত ভোটারের সংখ্যা ৩০ হাজার। তুলনায় গ্রামাঞ্চলে মৃত ভোটারের
সংখ্যা কম। রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর (সিইও অফিস) সূত্রে খবর,
এখনও পর্যন্ত যে ৫৩ লক্ষ ভোটারের ম্যাপিং করা যায়নি, তার মধ্যে মৃত
ভোটারের সংখ্যাই ২৩ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯৫। স্থানান্তরিত ভোটার রয়েছেন ১৮ লক্ষ
৫৫ হাজার ৩০২ জন। এছাড়াও অনুপস্থিত ভোটারের সংখ্যা ৯ লক্ষ ৪২ হাজার ১৬২
জন এবং অন্য বিভিন্ন কারণে ৩১ হাজার ৮০১ জন ভোটারের ম্যাপিং সম্ভব হয়নি।
সিইও দপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, ইতিমধ্যে ডিজিটাইডজ হওয়া ফর্ম বিএলওদের
পুনরায় যাচাই করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই কাজ চলছে। ফলে ম্যাপিং না হওয়া
ভোটারের চূড়ান্ত সংখ্যা সঠিক কত হবে, এখনই তা বলা সম্ভব নয়। অপেক্ষা করতে
হবে খসড়া তালিকা প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত।
এদিকে, মৃত বা স্থানান্তরিত
ভোটার একজনও নেই, এমন বুথের সংখ্যা কমতে কমতে এবার সাতে এসে দাঁড়াল।
কমিশনের তরফে প্রথমে বলা হয়েছিল, রাজ্যের ২২০৮টি বুথে গত এক বছরে কোনও
ভোটারের মৃত্যু হয়নি বা সেখান থেকে কেউ অন্যত্র স্থানান্তরিত হননি। কিন্তু
কয়েকদিনের মধ্যে সংখ্যা ক্রমশ কমতে শুরু করেছিল। বুধবার জানা গিয়েছিল, ২২০৮
নয়, এই ধরনের বুথের সংখ্যা রাজ্যে ৪৮০টি। এরপর জানা যায়, মোট ২৮টি এ
ধরনের বুথ রয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলায় এই
মুহূর্তে মাত্র সাতটি এমন বুথ রয়েছে, যেখানে গত এক বছরে কোনও মৃত বা
স্থানান্তরিত ভোটারের হিসেব নেই।
অন্যদিকে, বহস্পতিবারই বিএলওদের
বুথভিত্তিক মৃত, স্থানান্তরিত ও অনুপস্থিত ভোটারদের একটি তালিকা তৈরি করে
তা বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএদের (রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি) দিয়ে স্বাক্ষর
করানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এরপর বিএলএদের স্বাক্ষরিত সেই কপি বিএলওদের
জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট ইআরওর কাছে। বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, এই ধরনের
তালিকায় বিএলএরা সই করলে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের তরফে
বুথভিত্তিক মৃত, স্থানান্তরিত ও অনুপস্থিত ভোটার নিয়ে আর আপত্তি জানানোর
জায়গা থাকবে না। সূত্রের খবর, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিএলএরা কমিশনের এই
নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেছেন। এছাড়াও কমিশন এদিন জানিয়েছে, ভোটার
তালিকাকে ত্রুটিমুক্ত করতে কমিশনের তরফে ‘ডেমোগ্রাফিক সিমিলার এন্ট্রিজ’
নাম একটি নয়া সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। তা ব্যবহার করে মৃত, স্থানান্তরিত ও
অনুপস্থিত ভোটার চিহ্নিতকরণের কাজে সুবিধা হবে। এদিন থেকেই এই সফটওয়্যার
ব্যবহার করতে পারছেন ইআরওরা।

0 Comments