মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। কৃষ্ণনগর উত্তরের
বিধায়ক মুকুল রায়। ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে জিতে বিধায়ক হন তিনি। ২০২২
সালে ফেরেন তৃণমূলে। এর পরেই প্রশ্ন ওঠে তাঁর বিধায়ক পদ নিয়ে। সংবিধানের ১০
নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দল পরিবর্তন করলে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ হয়।
সেই বিষয়টি নিয়েই বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন শুভেন্দু
অধিকারী।
অভিযোগ ওঠে, বিধানসভার স্পিকার বিরোধী দলনেতার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে
মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ বহাল রাখেন। সেই অবস্থান চ্যালেঞ্জ করে মামলা
করেন শুভেন্দু। বৃহস্পতিবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি শব্বর রশিদির
ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিল। এক্স পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী লেখেন,
রাজ্যের ইতিহাসে তো বটেই, সম্ভবত দেশের ইতিহাসেও এই প্রথম এমন রায়।
বিধায়ক, সাংসদ হিসেবে নয়, মুকুলের দক্ষতা চিরকালই প্রশংসিত হয়েছে তাঁর
সাংগঠনিক দূরদর্শিতাকে সামনে রেখে। এক সময়ে তাঁকে বলা হতো তৃণমূলের
‘চাণক্য’। তৃণমূলের একেবারে প্রথম দিনের সৈনিক মুকুল রায় ২০১৭ সালের
নভেম্বর মাসে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটও পান কৃষ্ণনগর
উত্তর আসন থেকে।
তৃণমূল এই কেন্দ্রে প্রার্থী করে অভিনেত্রী কৌশানী মুখোপাধ্যায়কে। যদিও
দুঁদে রাজনীতিক মুকুল রায়ের কাছে হারতে হয় তাঁকে। তবে ভোটে জিতলেও
কৃষ্ণনগর উত্তরে সে ভাবে দেখাই যায়নি বিধায়ককে, অভিযোগ তোলেন তাঁর
ভোটাররাই। আর এ সবের মধ্যেই ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তৃণমূলে ফেরেন মুকুল।
এর পরেই মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
জানায় বিজেপি। মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজের দাবি জানিয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষ
বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
কিন্তু সেখানে সদুত্তর পাননি বলে দাবি তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। সেই
মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট এই নির্দেশ দিল।

0 Comments