নিউটাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায়
আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ। শিলিগুড়ি থেকে
অভিযান চালিয়ে ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে বিধাননগর থানার পুলিশ ।
অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতার নাম সজল সরকার।
জানা গিয়েছে, সজল
সরকার নামে ওই অভিযুক্তের বাড়ি কোচবিহার জেলার খাগড়াবাড়িতে । তিনি কোচবিহার
দুই নং ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি । পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে,
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের প্রধাননগরের মিলনমোড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করা
হয় ওই অভিযুক্তকে। ধৃতকে গ্রেফতারের পরই সড়কপথেই কলকাতা নিয়ে যাওয়া হয়েছে
বলে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার ধৃতকে আদালতে পেশ করা হবে বলে খবর। স্বর্ণ
ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় এই ব্যক্তি জড়িত বলে দাবি পুলিশের। এদিকে সজল
সরকারের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি ৷
এই
বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি পদমর্যাদার
এক আধিকারিক বলেন, "বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে আমাদের
ইন্টিমেশন দেওয়া হয়েছিল। একটি টিম গঠন করে অভিযানে সাহায্য করার জন্য
জানানো হয়েছিল ৷ সেই মতো প্রধাননগর থানা বিধাননগর পুলিশকে অভিযানে সাহায্য
করেছে । একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ।"
উল্লেখ্য, গত 28 অক্টোবর বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার
নিউটাউন থেকে স্বপন কামিলা নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার হয় ৷
দু’দিন পর তাঁর শ্যালক দেবাশিস কামিলা বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অপহরণ ও খুনের
অভিযোগ দায়ের করেন ৷ সেখানে মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে রাজগঞ্জের
বিডিও প্রশান্ত বর্মনের ৷ ইতিমধ্যেই পুলিশ তদন্তে নেমে দুই অভিযুক্তকে
গ্রেফতার করেছে । একজনের নাম রাজু ঢালি ও অন্যজনের নাম তুফান থাপা ৷ রাজু
ঢালি প্রশান্ত বর্মনের গাড়ির চালক বলে দাবি করা হয়েছে । প্রশান্ত বর্মন
কালচিনির বিডিও হিসেবে থাকাকালীন তুফান থাপা তাঁর ছায়াসঙ্গী ছিলেন বলে
অভিযোগ । যদিও এই ঘটনায় প্রশান্ত নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন ৷
অন্যদিকে,
রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ বলেই তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে ৷
স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে নাম জড়ানোর পর বারবার এই দাবি করছেন জলপাইগুড়ির
রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন ৷ এবার এই ইস্যুতে তাঁর বিরুদ্ধে মুখ
খুললেন আরও এক রাজবংশী ৷ তিনি জলপাইগুড়ির সাংসদ বিজেপি'র জয়ন্তকুমার রায় ৷
তাঁর দাবি, স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশান্ত বর্মন
রাজবংশী সমাজের কলঙ্ক হিসেবে পরিচিত হবেন ৷

0 Comments