ছাব্বিশের ভোটের আগে আজ বৃহস্পতিবার নদীয়ার সভা থেকে বকেয়া টাকা এবং আধার ইস্যুতে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন এক সরকারি পরিসেবা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ‘পথশ্রী’ ও ‘রাস্তাশ্রী’ প্রকল্পের নতুন পর্যায়ের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে, কৃষ্ণনগরের মাটি থেকে উন্নয়নের খতিয়ান পেশের পাশাপাশি কেন্দ্র-বিরোধিতার সুর চড়িয়ে চব্বিশের ভোটের আগে দলীয় কর্মীদের ভোকাল টনিক দিলেন মমতা।
এদিন নদীয়ার উপভোক্তাদের হাতে সরাসরি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা তুলে
দেন তিনি। সেই সঙ্গে ঘোষণা করেন ‘রাস্তাশ্রী’ এবং ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের
চতুর্থ পর্যায়ের কাজ। নবান্ন সূত্রে খবর, এই পর্যায়ে রাজ্যের ২৩টি জেলায় ২০
হাজার কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা তৈরি ও মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া
হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই রাস্তা তৈরির কাজে ১০০ দিনের প্রকল্পের
কর্মীদের কাজে লাগানো হবে, যার ফলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।
তবে উন্নয়নের বার্তার পাশাপাশি এদিনের সভার মূল সুর ছিল কেন্দ্রের
বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ। ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রাখা নিয়ে ফের চড়া
সুরে কেন্দ্রকে বিঁধলেন মমতা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘আমরা কেন্দ্রীয়
সরকারের ভিক্ষা চাই না। রাজ্যের টাকাতেই রাজ্য চলবে।’’ তিনি অভিযোগ করেন,
ভালো কাজ করা সত্ত্বেও বাংলাকে বারবার বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি
রাস্তা তৈরির টাকাও কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বকেয়া টাকা নিয়ে আদালতের নির্দেশের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
‘‘আদালতের নির্দেশ পেয়ে ছ’মাস ঘুমিয়ে ছিল কেন্দ্র। এখন হঠাৎ একটা নোটিস
পাঠিয়েছে।’’ তবে কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী না হয়ে রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিলের
অর্থে ১০০ দিনের কাজ চালিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
এদিনের সভায় ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) এবং
আধার কার্ডের (Aadhaar card) ব্যবহার নিয়েও সরব হন তৃণমূল সুপ্রিমো।
দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা বা প্যান কার্ডের সঙ্গে আধারের সংযুক্তি
বাধ্যতামূলক হলেও, ভোটাধিকার এবং নাগরিকত্বের প্রশ্নে আধারের ব্যবহার নিয়ে
প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিজেপিকে (BJP) তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘বিজেপির
তাঁবেদারির জন্য আধার কার্ড চলবে? ইয়েস স্যর!’’

0 Comments