বুধবার সকালে জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারে শান্তিমুনি এক্কা (৪৮) নামে এক
মহিলা BLO-র মৃত্যু হয়। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায়। SIR-এর কাজ করতে গিয়ে এর আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন বর্ধমানের এক
মহিলা BDO। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। কাজের চাপের জন্যেই তিনি অসুস্থ
হন বলে দাবি পরিবারের। পর পর BLO মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী।
সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই SIR করা হচ্ছে বলে কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন
তিনি।
এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে মমতা বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে ন্যায়সঙ্গত
ভাবে কাজ করার কথা বলব এবং আরও প্রাণহানির আগে অবিলম্বে এই অপরিকল্পিত
অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ উল্লেখ্য, এর আগেও রাজ্যের শাসকদলের
তরফে SIR-এর বিরোধিতা করে জানানো হয়েছিল, এক-দুই মাসের মধ্যে গোটা
প্রক্রিয়া কী করে সম্পন্ন করা সম্ভব? ২০০২ সালে প্রায় এক থেকে দেড় বছর ধরে
পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর কাজ হয়েছিল, সেখানে একমাসের মধ্যেই দ্রুততার সঙ্গে
ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন আদৌ সম্ভব? প্রশ্ন তোলে তৃণমূল।
ইতিমধ্যেই SIR-এর ‘আতঙ্কে’ রাজ্যে একাধিক ভোটারের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি
করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘SIR শুরু হওয়ার পর থেকে রাজ্যে ২৮ জন
মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কেউ আতঙ্কিত হয়ে, কেউ দুশ্চিন্তার কারণে অসুস্থ হয়ে
মারা গিয়েছেন। কমিশনের অপরিকল্পিত ও অবিরাম কাজের চাপের কারণে মূল্যবান
জীবন চলে যাচ্ছে। আগে যে প্রক্রিয়া ৩ বছর সময় লাগত, এখন রাজনৈতিক
প্রভুদের খুশি করার জন্য নির্বাচনের আগে মাত্র ২ মাস সময় বেঁধে দেওয়া
হয়েছে। বিএলওদের উপর অমানবিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।’
গত ৯ নভেম্বর পূর্ব বর্ধমানে ব্রেন স্ট্রোক হয়ে মৃত্যু হয় বিএলও নমিতা
হাঁসদার। তিনি মেমারির চক বলরামপুরের ২৭৮ নম্বর বুথের বিএলও হিসাবে কাজ
করছিলেন। অসুস্থ হলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাঁচানো
সম্ভব হয়নি। পরিবারের দাবি ছিল, রাতদিন এক করে কাজ করতে হচ্ছিল নমিতাকে।
কাজের চাপেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।


0 Comments