আশঙ্কাই সত্যি হল! একতরফা বিচারে মৃত্যুদণ্ড হল বাংলাদেশের প্রাক্তন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। সোমবার সেদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবিউনাল
এই রায় দিয়েছে। আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পর হাসিনার বিচারের জন্য গঠিত হয়
এই ট্রাইবিউনাল। হাসিনার সঙ্গেই ফাঁসির সাজা হয়েছে তাঁর আমলের
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালেরও। যদিও এই রায়কে প্রত্যাখ্যান
করেছে আওয়ামি লিগ। দলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
‘বাংলার জনগণ এই রায় মানে না, মানবে না।’ আরও বলা হয়েছে, ‘প্রতিশোধের
লক্ষ্য নিয়ে মানুষের প্রিয় নেত্রীর বিরুদ্ধে এই রায় দিয়েছে। অচিরেই এই
সরকারকে আমরা পদত্যাগে বাধ্য করব।’
গত বছরের জুলাই-আগস্টে গণ আন্দোলনের সময় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের হয়। শুধু তিনি নন, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের প্রাক্তন আইজি আবদুল্লা আল মামুনের বিরুদ্ধেও একই মামলা দায়ের হয়েছে। এই মামলায় মামুন রাজসাক্ষী। এই তিনজনের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। প্রতিটি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে হাসিনাকে। এর মধ্যে দু’টি অভিযোগে তাঁর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একটি অভিযোগে ফাঁসির সাজা হয়েছে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালেরও। পুলিশের প্রাক্তন আইজি মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আজ স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ শুরু হয় ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়দান। আইন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন হাসিনা। যে কারণে এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করতে পারবেন না।
মনের মতো এই রায়ে স্বভাবতই খুশি ইউনুস সরকার। ট্রাইবিউনালের রায়ের ঘোষণার পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মহম্মদ আসাদুজ্জামান। তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘জুলাই বিপ্লবের শহিদরা ন্যায়বিচার পেয়েছে, রাষ্ট্র ন্যায়বিচার পেয়েছে।’ আরও জানিয়েছেন, গ্রেফতারের দিন থেকে হাসিনাদের বিরুদ্ধে সাজা কার্যকর হবে।

0 Comments