তবে ভোটার এসআইআর চলাকালীন ২০২৫ সালের ভোটার লিস্টে, নতুন করে নাম তোলা কিংবা নাম বাদ দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ ২০২৫ সালের ভোটার লিস্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। ভোটার এসআইআর এর কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ ফাইনাল ভোটার তালিকা প্রকাশ করবেন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির 7 তারিখে।
পশ্চিমবঙ্গে শেষবারের মতো ভোটার এসআইআর হয়েছে 2002 সালে। নির্বাচন কমিশন সেই 2002 সালের ভোটার লিস্টের ভিত্তিতেই করছে ভোটার এসআইআর। যেসকল ভোটারের নাম কিংবা বাবা, মা, ঠাকুমা কিংবা ঠাকুরদা – এই চারজনের মধ্যে একজনের নাম ভোটার লিস্টে থাকলে দিতে হবে না অতিরিক্ত নথি। তবে যাদের নাম 2002 সালের ভোটার লিস্টে নেই কিন্তু তিনি একজন ভারতের নাগরিক ও পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা, সেই সকল ভোটারদের জন্য বেশ কিছু ডকুমেন্টস এর কথা বলা হয়েছে। সেই সব নথির মধ্যে যেকোনো একটি কিংবা দুইটি নথি দেখিয়ে তারাও তাঁদের নাম 2026 সালের ফাইনাল ভোটার লিস্টে তুলতে পারবেন।
2002 সালের ভোটার লিস্টে নিজের কিংবা বাবা – মা – ঠাকুমা কিংবা ঠাকুরদার নাম না থাকলেও! 2026 সালের ভোটার লিস্টে নাম তুলতে পারবেন, নিচের নথি গুলো আপনার কাছে থাকলে। তবে ভোটার এসআইআর ফর্ম পূরণ করে জমা করার সময় কোনো নথি দেখাতে কিংবা ফর্মের সাথে BLO এর কাছে জমা করতে হবে না। যাদের নাম 2002 সালের লিস্টে নেই তাদের ডকুমেন্টস ভেরিফিকেশন শুরু হবে 9ই ডিসেম্বর 2025 তারিখ থেকে চলবে 31শে জানুয়ারি 2026 তারিখ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে ভোটারদের ডকুমেন্টস ভেরিফিকেশন ও হেয়ারিং এর কাজ সম্পন্ন হবে। এরপর ফাইনাল ভোটার লিস্ট প্রকাশ হবে 7ই ফেব্রুয়ারী 2026 তারিখে। আপনার জন্ম তারিখ অনুযায়ী কি কি নথি দেখাতে হবে –
★ আপনি যদি ভারতে 01/07/1987 সালের আগে জন্মগ্রহণ করে থাকেন তাহলে, জন্মতারিখ অথবা জন্মস্থানের প্রমাণস্বরূপ নিন্মোক্ত তালিকা থেকে নিজের জন্য যেকোনো একটি নথি জমা দিতে হবে।
★ আপনি যদি ভারতে 01/07/1987 থেকে 02/12/2004 এর মধ্যে জন্মগ্রহণ করে থাকেন তাহলে, জন্মতারিখ অথবা জন্মস্থানের প্রমাণস্বরূপ নিন্মোক্ত তালিকা থেকে নিজের জন্য যেকোনো একটি নথি জমা দিতে হবে। এর পাশাপাচি জন্মতারিখ অথবা জন্মস্থানের প্রমাণস্বরূপ নিন্মোক্ত তালিকা থেকে পিতা বা মাতার জন্য যেকোনো একটি নথি জমা দিতে হবে।
★ আর আপনি যদি ভারতে 02/12/2004 সালের পর জন্মগ্রহণ করে থাকেন তাহলে, জন্মতারিখ অথবা জন্মস্থানের প্রমাণস্বরূপ নিন্মোক্ত তালিকা থেকে নিজের জন্য যেকোনো একটি নথি জমা দিতে হবে। এর পাশাপাশি জন্মতারিখ অথবা জন্মস্থানের প্রমাণস্বরূপ নিন্মোক্ত তালিকা থেকে পিতার জন্য যেকোনো একটি নথি জমা দিতে হবে। এছাড়াও জন্মতারিখ অথবা জন্মস্থানের প্রমাণস্বরূপ নিন্মোক্ত তালিকা থেকে মাতার জন্য যেকোনো একটি নথি জমা দিতে হবে।
2002 সালের ভোটার লিস্টে নাম না থাকলে, যে নথিগুলি জমা দিতে পারবেন, তা হলো –
1. যেকোনো পরিচয়পত্র / পেনশন পেমেন্ট অর্ডার যেটি কেন্দ্রীয় সরকার/ রাজ্য সরকার/ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার যেকোনো নিয়মিত কর্মী/ পেনশনপ্রাপককে দেওয়া হয়েছে।
2. যে কোনো পরিচয়পত্র/ শংসাপত্র/ নথি যেটি 01/07/1987 এই তারিখের পূর্বে সরকার/ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ/ব্যাংক/ ডাকঘর/ ভারতীয় জীবনবিমা নিগম/ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত।
3. উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত জন্মের শংসাপত্র।
4. পাসপোর্ট।
5. স্বীকৃত পর্ষদ/ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত মাধ্যমিক/ শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র।
6. রাজ্যের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত স্থায়ী বাসস্থানের শংসাপত্র।
7. বনভূমি অধিকার শংসাপত্র।
8. উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অন্যান্য অনগ্রসর সম্প্রদায়/ তপশিলি জাতি/ তপশিলি উপজাতি বা অন্য অনগ্রসর জাতির শংসাপত্র।
9. নাগরিকদের জাতীয় রেজিস্টার (যে সমস্ত ক্ষেত্রে এটা রয়েছে)।
10. রাজ্য/স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা তৈরি পারিবারিক রেজিস্টার।
11. কোনো জমি/ বাড়ি বরাদ্দের সরকারি শংসাপত্র।
12. আধারের জন্য কমিশনের 09/09/2025 তারিখের নির্দেশ নং 23/2025-ERS/Vol.।। প্রযোজ্য হবে।
13. 01/07/2025 অনুযায়ী বিহারের এস.আই.আর-এর নির্বাচক তালিকার নির্যাস।

0 Comments