দেশজুড়ে হলেও ভোটমুখী অসমে হচ্ছে না এসআইআর, কেন? কারণ ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশনের

 

বাংলা-সহ ১২ রাজ্য এবং কেন্দ্রাশাসিত অঞ্চলগুলিতে শুরু হচ্ছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। সোমবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই ঘোষণা করলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কিন্তু অসমে এসআইআর কার্যকর হচ্ছে না।

কেন আসমে এসআইআর হচ্ছে না, তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে অসমে এনআরসি প্রায় শেষের পথে। এছাড়া উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্যের নিজস্ব বিধানও রয়েছে। তাই এসআইআর প্রক্রিয়া থেকে অসমকে বাদ রাখা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “অসমের জন্য আলাদা করে নির্দেশিকা জারি করা হবে এবং পৃথক তারিখ ঘোষণা করা হবে।” উল্লেখ্য, আগামী বছরই বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে অসমে।

এক সময়ে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনে উত্তপ্ত হয় অসম। এরপর ১৯৮৫ সালে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ভারত সরকারের ‘অসম চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির সময় ভারতীয় নাগরিকত্বের ৬-এ ধারাটি গঠন করা হয়েছিল। এই ধারাটি শুধু অসমের জন্যই প্রযোজ্য। এই ধারা অনুযায়ী, ১৯৬৬-র ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৭১-এর ২৪ মার্চ পর্যন্ত অসমে অনুপ্রবেশ করা বাংলাদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু নির্ধারিত ওই সময়সীমার পর যারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। তবে এই ধারা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয় বিস্তর। কিন্তু পরে সুপ্রিম কোর্ট এই ধারাটিকে বৈধ বলে জানায়। 

এদিন কমিশনের তরফে জানানো হয়, দ্বিতীয় পর্বে এসআইআর হবে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, গোয়া, গুজরাট, কেরল, লাক্ষাদীপ, মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরি এবং আন্দামান নিকোবরে। জ্ঞানেশ কুমার আরও জানিয়েছেন, বিরাট কর্মযজ্ঞে আন্দামান ও নিকোবর, বাংলা, ছত্তিশগড়, গোয়া, মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরিতে প্রায় ৫ লক্ষেরও বেশি বিএলএ কাজে যোগ দেবেন। 

কমিশন জানিয়েছে, এসআইআর বাস্তবায়নে মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে এনুমেরেশন ফর্ম ছাপা। একই দিনে শুরু হবে বিএলওদের প্রশিক্ষণের কাজ। যা চলবে আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমেরেশন ফর্ম দেওয়া হবে। কেউ রাজ্যের বাইরে গেলে বা প্রবাসীরা অনলাইনেও ফর্ম ভরতে পারবেন। অন্যদিকে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর। এই তালিকা নিয়ে অভিযোগ থাকলে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে হবে। পরবর্তী পর্যায়ে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে অভিযোগ শোনা এবং খতিয়ে দেখার কাজ। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারি।

 

 

Post a Comment

0 Comments